ক্ষুদ্রঋণে আত্মকর্মসংস্থান : অসম্ভব সাধারণীকরণ

professor-dr.-mijanur-rahman.diamu

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির প্রসঙ্গটি নিয়ে আমাদের দেশে বহুবছর ধরেই কাজ হচ্ছে। সরকারি, বেসরকারি এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে কাজ হচ্ছে। এটাকে আজকাল আবার কেউ কেউ স্ব-উদ্যোগ বলেও অভিহিত করেন। তবে, যে নামেই ডাকা হোক না কেন মূল লক্ষ্য একটিই। আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিজে করাকেই আত্মকর্মসংস্থান বলে। প্রত্যেকে যেন চাকরির পেছনে না ছুটে বা চাকরির খোঁজ না করে সে জন্যই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির কাজটি করা হয়। অনেকে আবার এই ভাবনাটিকে গতিশীল করার জন্য নানা প্রকার সুপারিশও দিয়ে থাকে। তবে, বিষয়টি নিয়ে আমার একটু ভিন্ন মত রয়েছে। কারণ, সবাইকে উদ্যোক্তা তৈরির চেষ্টা করার আগে বুঝতে হবে সকলে আসলে উদ্যোক্তা হতে পারবে কিনা। আবার, আমরা যেভাবে ঢালাওভাবে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আহবান করি, বিভিন্ন প্রকার উপদেশ দেই সেটাও সকল দিক চিন্তা করে দেই কিনা তাও ভেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ, যা আমরা বলি বা যা দেখতে চাই বাস্তবতা তার সাথে অনেকটা ভিন্ন চিত্র প্রকাশ করে।

আজ থেকে প্রায় বিশ পঁচিশ বছর আগে বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ড ভিত্তিক কনসার্ন নামক একটি এনজিও মূলত দুস্থ মহিলাদের নিয়ে কাজ করত। দুস্থ বলতেও সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় যাঁরা ছিল তাঁদের নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করত। এই তালিকার মধ্যে ছিল যাঁরা স্বামী কর্তৃক বিতাড়িত, বিধবা, গৃহহীন, আশ্রয়হীন এবং যাঁদের সত্যিকার অর্থেই কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই এমন সব মহিলা। এই সকল মহিলারা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করত। ওই সময়ে কনসার্নের কিছু প্রকল্প আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছিলাম। ইউএনডিপির অর্থায়নে একটি গবেষণা প্রকল্প ছিল। আমি ওই প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলাম। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল।

কনসার্ন নামের ওই এনজিও প্রতিষ্ঠানটি দুস্থ মহিলাদের তাদের সেন্টারে নিয়ে আসতো। কোন মহিলার ছোট সন্তান থাকলে ওদেরকেও নিয়ে আসতো। তারপর কয়েক মাস ওই সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করত। এটি তিন মাস, চার মাস এমনকি বার মাসও হতো। এনজিও’র পক্ষ থেকে দুস্থদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। বাচ্চাদের থাকা খাওয়ার পাশাপাশি পড়ালেখা শেখানো হতো। আর মহিলাদের বিভিন্ন প্রকার বৃত্তিমুলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। চানাচুর বানানো, মুড়ি ভাজা, ঠোঙ্গা বানানো, বাঁশ ও বেঁতের পণ্য তৈরি, হাতের কাজ, কাঁথা সেলাইসহ আরও নানা রকম কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ব্যবসা শুরুর জন্য মূলধনও দিত। তারপর তাঁদেরকে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে বলত। তখন তাঁদের আর ওই সেন্টারে রাখা হতো না। শুধু প্রশিক্ষণ ও মূলধন দিয়েই বিদায় করত না।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের কাজ করার জন্য যে সকল যন্ত্রপাতি বা উপকরণ প্রয়োজন হতো সেগুলোও দিয়ে দিত। এতসব দেওয়ার পরেও এক বছর বা সর্বোচ্চ দেড় বছর পর তাঁরা আবার তাঁদের আগের কাজে ফিরে যেত। আবার অধিকাংশই ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিত। অর্থাৎ, তাঁদের পক্ষে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব হতো না। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের যে মূলধন বা পুঁজি দেওয়া হত তা শেষ করে ফেলত। প্রশিক্ষণ দিয়ে যে কাজটা শেখানো হয়েছিল শেষ পর্যন্ত সেটি আর করতে পারত না। তখন আমার পর্যবেক্ষণে যে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছিল তা হলো সকলকে মালিক বানানো সম্ভব না। উদ্যোক্তা মানেই অতি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান হলেও তিনি তার মালিক। তাঁর কোনো কর্মচারী না থাকলেও তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক। মালিক হতে হলে একজন ব্যক্তির মধ্যে কিছু অর্ন্তনিহিত বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন যা সকলের মধ্যে থাকে না। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, বিচক্ষণতা, সাহসী, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, আর নিজে কিছু করার অদম্য ইচ্ছা না থাকলে তাঁকে মালিক বানানো যায় না। এ কারণেই কনসার্ন সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার পরও তাঁরা মালিক হতে পারেনি।

আমরা তখন কনসার্নকে বলেছিলাম দুস্থ মহিলাদের জন্য কিছু করতে হলে সবার জন্য ঢালাওভাবে একই কাজ করা ঠিক হবে না। আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম টার্গেট গ্রুপকে সেন্টারে আনার পর তাঁদেরকে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করতে। যাঁদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, যাঁরা সৃজনশীল মেধার অধিকারী, যাঁরা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং নিজে কিছু করার মতো সাহস ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ধারণ করে তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য। আর যাঁদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান নেই তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক উদ্যোক্তাদের অধীনে শ্রমিক হওয়ার জন্য। সকলকে উদ্যোক্তা তৈরির ভাবনাটি কখনো সফল করা সম্ভব না।

আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো সমাজের সকলে উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। শতকরায় এই পরিমাণটি আড়াই শতাংশের বেশি হবে না। আড়াই শতাংশের মধ্যেই উদ্যোক্তা হওয়ার গুণাবলী পরিলক্ষিত হয়। আর বাকি মানুষকে কোথাও না কোথাও চাকরি করতে হবে। যদি সকলকে উদ্যোক্তা তৈরির শপথ নিয়ে মাঠে নামি তাহলে সেটি কোনো ভালো পলিসি হবে বলে আমি মনে করি না। এখানে আরেকটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। হবু উদ্যোক্তাদের যখন কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তখন তাঁকে কোনো একটি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু, জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রসারতা আর প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নতি প্রায়ই পুরোনো পণ্যকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়। একসময় আমাদের দেশে বাঁশ ও বেঁতের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের বেশ প্রচলন ছিল। কিন্তু নানা প্রকার পণ্যের উদ্ভাবন সেই বাজারকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ফলে, উদ্যোক্তারা যদি নিজেদের প্রযুক্তির সাথে তাল মিলাতে না পারে তাহলে দেখা যায় তাঁর পণ্যের বাজার আর থাকে না। আর তাঁদের পক্ষে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ করা সম্ভবও হয় না। ফলে, তাঁদের পণ্যগুলো হারিয়ে যায়। তাঁদের উদ্যোগগুলোও থেমে যায়।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরেকটি সমস্যা হলো তাঁদের প্রশিক্ষণের ধরণ। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই আছে যাঁরা একটি বা দুটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু পরে যখন ওই প্রশিক্ষণের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা পণ্য বাজারে চলে না, ক্রেতারা কিনে না, তখন তাঁর ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন ক্রেতাদের সামনে এত ধরনের পণ্য এসে হাজির হয়েছে যার কারণ বেশিরভাগ ক্রেতা সনাতন পণ্যের প্রতি আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বাজারের চাহিদার সাথে নিজেকে মেলাতে না পারার কারণেও অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা টিকে থাকতে পারে না।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরেকটি সমস্যা হলো মূলধন। অনেকে সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বিনা জামানতে ব্যাংক থেকে পঞ্চাশ হাজার বা এক লক্ষ টাকা ঋণ হিসেবে পায়। এই টাকা দিয়ে তাঁরা ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু নানা কারণে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে বাজারের প্রতিযোগিতা ঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। বাজার সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণে ব্যবসা ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারে না। মানসিকভাবেও অনেক সময় চাপে থাকার কারণে ব্যবসার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগী হতে পারে না। এমন একটি অবস্থায় যখন ব্যবসা ঠিকভাবে চলতে পারে না তখন ঋণের কিস্তি শোধ করা নিয়ে প্রতিক্ষণ একটি বাড়তি চাপ অনুভব করে। ফলে চতুর্মুখি চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যবসাকে আর ধরে রাখতে পারে না। এক সময় ঋণের আবর্তে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে সেই উদ্যোক্তা।

আমাদের দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আরেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। প্রায়ই দেখা যায় এ ধরনের উদ্যোগ যাঁরা গ্রহণ করে তাঁরা আবার পারিবারিক বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণেও বাধ্য হয়। যখন বেকার ছিল তখন হয়তো তেমন দায়িত্ব নিতে হয়নি। কিন্তু যখনই কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তখনই দায়িত্বও নিতে হয়েছে। ব্যবসার অবস্থা কেমন বা কেমন চলছে এ বিষয়গুলো নিয়ে পরিবার মাথা ঘামাতে চায় না। তখন আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ও করতে হয়। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের হিসাবজ্ঞান ভালো না থাকার কারণে তাঁরা বুঝে উঠতে পারে না কত টাকা আয়ের বিপরীতে কত টাকা ব্যয় করছে। কখনো কখনো অনুৎপাদন খাতেও মোটা অংকের টাকা খরচ করে ফেলে। বাড়িতে নিজের বা ভাই-বোনের বিয়ের আয়োজন হলে হিসাবের বাইরে অনেক টাকা খরচ করে। বিভিন্ন উৎসবে টাকা খরচ করে। তাঁদের যেহেতু হিসাব নিকাশ সংক্রান্ত ভালো কোনো জ্ঞান থাকে না বা এ বিষয়গুলো ভালোভাবে অনুধাবণ করতে পারে না, ফলে কখন কতটুকু অর্থ খরচ করা যাবে সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই থাকে না। কিন্তু বিষয়টি যখন বুঝতে পারে তখন আর করার কিছু থাকে না। মূলধন সংকটে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হয়। কখনো কখনো ঋণের কিস্তির টাকাই তাঁদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে, এ ধরনের উদ্যোক্তারা ঋণ পরিশোধ, সঞ্চয় বা মূলধন গঠনের মতো কাজগুলো করতে পারে না। এক পর্যায়ে তাঁরা উদ্যোক্তার সারি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়।

নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও দেখা যায় শতকরা পাঁচ ভাগ উদ্যোক্তা হয়তো ব্যতিক্রম। তাঁদের মধ্যে সৃজনশীলতা আছে। বুদ্ধিদীপ্ত মেধা রয়েছে। উদ্যোগ গ্রহণের মতো সাহস আছে। তাঁরা হয়তো কিছু একটা শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই উদ্যোক্তা হয়তো তাঁর উদ্যোগ থেকে ভালো একটা মুনাফা করতে সক্ষম হয়। কিন্তু, মুনাফার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। কারণ, তাঁর দেখাদেখি আরও অনেকেই সেই একই উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একই ধরনের উদ্যোগ অনেকে গ্রহণের কারণে পণ্যের সরবরাহ বেড়ে যায়। বাজারে চাহিদা অপেক্ষা যোগান বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম কমে যায়। এক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে অস্বচ্ছ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত কারো পক্ষেই বাজারে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগের অনেক নমুনা রয়েছে। যুবউন্নয়ন থেকে কেউ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যদি গ্রামের কিছু জায়গায় থাই পেয়ারার গাছ লাগিয়ে কয়েক বছর পর ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারে তাহলে তার পরের বছরই দেখা যাবে পুরো গ্রাম থাই পেয়ারা গাছে ভরে গেছে। শুধু থাই পেয়ারা নয়। ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করা যায় এমন যে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রেই অভিন্ন অবস্থা দেখা যায়। এটিও আমাদের দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে একটি বড় সমস্যা।

উৎপাদনের পরিমাণের মাত্রা নিয়েও আমাদের দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে রয়েছে সমস্যা। একজন বেকার যুবক যখন কোথাও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উদ্যোগ গ্রহণ করতে উৎসাহী হয় তখন প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তাঁদের ক্ষুদ্র পরিসরে আরম্ভ করতে হয়। কেউ হয়তো চিন্তা করতে পারে তাঁতের শাড়ি নিয়ে কাজ করবে। শাড়ি বুনন বা ব্যবসা পরিচালনার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শাড়ির ব্যবসা শুরু করতে পারে। যেহেতু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সেহেতু তাঁর পক্ষে বেশি শাড়ি উৎপাদন করা সম্ভব না। উৎপাদনের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে শাড়ির এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বেশি হবে। উদ্যোক্তার শাড়ির চাহিদা যদি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তখন বড় কোনো উদ্যোক্তা তাঁতের পরিবর্তে মেশিনে ওই শাড়ি তৈরি করবে। মেশিনে শাড়ি তৈরির কারণে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় অনেক কমে আসবে। তখন ক্রেতারা প্রায় একই শাড়ি বেশি দামে কিনবে না। যদি অনুরুপ শাড়ি ভারত থেকে আসতে শুরু করে তখন অল্পসংখ্যক ক্রেতাই বলবে এটি আমার দেশে তৈরি শাড়ি এটি ক্রয় করলে একজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। বেশির ভাগ ক্রেতা কম দামে ভারতীয় শাড়ি কিনবে। ফলে, উদ্যোক্তারা উৎপাদনের পরিমাণগত সমস্যার কারণেও বাজারে টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এক ধরনের হুমকি। যখন কোনো প্রযুক্তির পরিবর্তন হয়, উন্নত হয় তখন তা গ্রহণ করতে না পারলে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হয় না। আমাদের দেশের খুব কম সংখ্যক উদ্যোক্তারই অতিরিক্ত অর্থ আছে যাঁরা নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে পারে। বড় একটি অংশই প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে, প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে তাঁরাও বাধ্য হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে। কারণ, উন্নততর প্রযুক্তি মানেই আরও স্বল্প ব্যয়ে ও কম সময়ে অধিক মানসম্পন্ন পণ্য তৈরির নিশ্চয়তা। কিন্তু আমাদের দেশের কয়জন উদ্যোক্তার পক্ষে নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করা সম্ভব? এই সমস্যাটি শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। একজন বড় উদ্যোক্তাও এ ধরনের সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ধ হতে পারে। কারণ, বড় উদ্যোক্তা হয়তো অধিক অর্থের মালিক। কিন্তু তাঁর উৎপাদিত পণ্যকে যদি বিদেশি কোনো ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয় তাহলে সেখানেও প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এদেশের ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় সুতি শাড়ির অধিক চাহিদার এটাই অন্যতম কারণ।

বিশ্বায়নের যুগে পণ্যের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া যায় না। তাই শুধু নিজের দেশের পণ্যের সাথেই প্রতিযোগিতা হবে এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার পরেও কেউ কেউ আত্মকর্মসংস্থানের পথে সফলতা দেখাতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর ছেলেমেয়েরা ওই অভিন্ন উদ্যোগে আর আসতে চায় না। ছেলে-মেয়েরা অল্প পড়ালেখা করলেও অন্য কোনো পেশার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে যখন উদ্যোক্তার বয়স হয়ে যায়, কাজ থেকে অবসর নেওয়ার সময় চলে আসে তখন তাঁর উদ্যোগটিকে আর কেউ ধরে রাখে না। ছেলে-মেয়েরা চাকরি নিয়ে সৌদি আরব বা মালয়েশিয়া গিয়ে হয়তো শ্রমিকের কাজ করবে কিন্তু দেশে পিতার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নিবে না। এটিও আমাদের দেশে উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা।

উদ্যোক্তা তৈরির পথে এমন একটি চিত্র যেখানে দৃশ্যমান সেখানে আমাদের মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল একটি প্রবৃদ্ধির জন্য এ ধরনের একটি পন্থা আদৌ খুব কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারবে কিনা। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার জন্য আর সময় ব্যয় করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে, বিশ্বায়নের এই সময়ে, অবাধ অর্থনীতির যুগে উদ্যোক্তা তৈরির সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনা না করে যাঁরা উদ্যোক্তা হতে চায় তাঁদের নিয়ে আমরা আবেগ দেখাতে পারবো, রাজনীতি করতে পারবো কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলাফল কি হবে। একদিকে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারবে না।

আবার অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতেও তাঁদের কোনো অবদান থাকবে না। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে আমরা কি করব? এক্ষেত্রে এক কথায় বলা যায় আমাদের দ্রুত শিল্পায়ন করতে হবে। বৃহৎ পরিসরের শিল্পায়ন করতে হবে যেখানে যে কোনো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো সক্ষমতা থাকবে। পণ্যের মান উন্নত হবে। একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। আর এই ইস্যুতে হাজার হাজার লোককে উদ্যোক্তা বানানোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। শুধু যাঁদের মধ্যে সৃজনশীলতা আছে, প্রচন্ড ইচ্ছা বা আগ্রহ আছে, ঝুঁকি নেওয়ার মতো সাহস আছে এবং একজন উদ্যোক্তা হওয়ার মতো মনমানসিকতা আছে তাঁদের জন্যই প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।

তবে, শুধু প্রশিক্ষণের আয়োজন করলেই একজন সফল উদ্যোক্তা পাওয়া যায় না। উদ্যোক্তাকে সফল হওয়ার জন্য যে ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা প্রয়োজন তারও ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অবকাঠামো ঠিক করার দায়িত্ব উদ্যোক্তার নয়। রাস্তা নির্মাণ, ব্রিজ নির্মাণ, খনি থেকে কয়লা উত্তোলন, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, গ্যাস সরবরাহ করা এবং উৎপাদন কাজে ব্যবহার হতে পারে এ ধরনের সুবিধাগুলো কোনো উদ্যোক্তার পক্ষে আয়োজন করা সম্ভব না। আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে কোনো চিন্তা না করে উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রতিবছর যে পরিমাণ সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়মের আয়োজন করি তা বাদ দিয়ে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে। বরং আমাদের চিন্তা করার সময় এসেছে যাঁরা প্রকৃতপক্ষে উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষমতা রাখে তাঁদের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা এবং ওই উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য দক্ষ মানবশক্তি তৈরি করা। কারণ, আমাদের দেশে দক্ষ মানবসম্পদের বড় অভাব। একজন ব্যক্তির উদ্যোক্তা হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরেও মানবসম্পদের স্বল্পতার কারণে তাঁর উদ্যোগটি থেমে যেতে পারে। তাঁকে লোকসানের মধ্যে পড়তে হতে পারে।

আমরা সরকারি পর্যায়ে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর চেষ্টা করছি। মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর চেষ্টা করছি। অথচ আমাদের দেশে কয়েক লক্ষ বিদেশি লোক কাজ করছে। তাঁরা অধিকাংশই শ্রীলংকা ও ভারতের। এর পাশাপাশি ইউরোপের কিছু দেশের নাগরিকও আছে। এশিয়ার মধ্যে চীন, কোরিয়া তো আছেই। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করা প্রয়োজন। এখন আমাদের দেশের অনেক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে সেকেন্ড জেনারেশন লিড দিচ্ছে। প্রাণ, মেঘনা, বসুন্ধরা, স্কয়ার, ভাইয়া গ্রুপ, পারটেক্স এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যখন যাত্রা করেছিল তখন এগুলোর অবয়ব এ রকম ছিল না। উদ্যোগগুলোও ছিল সীমিত পরিসরে। তখন নেতৃত্বে ছিল ফার্স্ট জেনারেশন। কিন্তু তাঁদেরই সেকেন্ড জেনারেশন বিদেশে পড়ালেখা করে এখন ব্যবসার হাল ধরেছে। তাঁরা আধুনিক চিন্তা চেতনা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করনে। তাঁরা অনেক বড় বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু, তাঁরা প্রতিনিয়ত দক্ষ মানবসম্পদের অভাবে ভুগছে। বাধ্য হয়ে নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি দক্ষ ও চৌকষ কর্মীদের উপর।

আমরা যদি আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় সেখানে নিচের পদগুলোতে সব আমাদের লোক। কিন্তু মিড লেভেল থেকে শুরু করে টপ লেভেল পর্যন্ত অনেক বিদেশি কর্মী কাজ করছে। কারণ, বিদেশি বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য যে ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রয়োজন তা আমাদের দেশের লোকদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। আগে মনে করা হতো ইংরেজি জানলেই বিদেশি বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করে তৈরি পোশাকের অর্ডার পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে শুধু ভাষাজ্ঞান দিয়ে তা আর আজ হচ্ছে না। তাছাড়া আমাদের দেশে ইংরেজিতে ভালোভাবে কথা বলতে পারে ও লিখতে পারে এমন লোকের সংখ্যা খুব বেশি না। একজন মার্চেন্ডাইজারকে বিজনেস অ্যানালাইসিসও ভালোভাবে জানতে হয়।

আবার এমন অনেক বিদেশি বায়ার আছে যাঁরা ইংরেজি ভালো জানে না। তাঁরা তাঁদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করে। কেউ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে। আবার কেউ ফ্রেঞ্চ ভায়ায়। চীনারা তো ওদের ভাষা ছাড়া কিছু বুঝেই না। ফলে একজন দক্ষ মার্চেন্ডাইজার হতে হলে তাঁকে কয়েকটি ভাষায় পারদর্শী হতে হয়। আর সাথে প্রয়োজন ব্যবসায়িক জ্ঞান। বাস্তবে দেখা যায় বিদেশি যাঁরাই এদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছে তাঁরা আমাদের লোকদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। এখন প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাঁদের নিয়োগ দিতে হচ্ছে। তাঁরা এদেশের যে কোনো কর্মীর তুলনায় অনেক বেশি বেতন নিয়ে যাচ্ছে। অথচ এদেশে লক্ষ লক্ষ বেকার চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমরা দ্রুত শিল্পায়নের কথা বলছি। আমাদের এই মুহূর্তে একটি বড় সুবিধা হলো ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার শতকরা হারে যুবকের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। এটি যে কোনো দেশের জন্য একটি বড় সুবিধা। কিন্তু আমাদের সমস্যা হলো এই তরুণ বা যুবকরা কর্মক্ষম না। ফলে এদের প্রশিক্ষিত না করে কোথাও নিয়োগ দেওয়া হলে ওই প্রতিষ্ঠানকেই ঝামেলায় পড়তে হবে। এ অবস্থা আমাদের দেশের ভেতরের। কিন্তু দেশের বাইরের চাকরির বাজারের কি অবস্থা। সেখানেও একই দৃশ্য বিদ্যমান। যাঁরাই বিদেশে যাচ্ছে তাঁদের সিংহভাগই কোনো প্রশিক্ষণ না নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। ফলে বিদেশে এদের কাজের ক্ষেত্রগুলো একদম নিচের স্তরে। অথচ ভারত, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন থেকে যাঁরাই ওই দেশগুলোতে যাচ্ছে তাঁরা কোনো না কোনো কাজে দক্ষতা অর্জন করে যাচ্ছে। কম্পিউটার, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা অন্য যে কোনো কাজে দক্ষতা অর্জন করে তারপর যাচ্ছে। ফলে আমাদের দেশের একজন কর্মী যা আয় করছে ওই সকল দেশের নাগরিকরা তারচেয়ে কমপক্ষে একশ গুণ বেশি টাকা আয় করছে।

আমরা মালয়েশিয়া বা সৌদি আরবে একশ জন কর্মী পাঠিয়ে যা আয় করতে পারবো ইউরোপ বা আমেরিকায় একজন দক্ষ লোক পাঠিয়ে তারচেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। আমি অস্ট্রেলিয়াতে দেখেছি ভবন নির্মাণের সাথে এক ধরনের কর্মী জড়িত যাঁদের ব্রিক সেটার বলে। আমাদের দেশে এদেরকে রাজমিস্ত্রি বলে। এদেশে রাজমিস্ত্রিরা অধিকাংশ সময়ই বংশানুক্রমিকভাবে তৈরি হয়। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেছে। এখন ছেলেও ওই একই পেশায় এসেছে। এদের কোনো সার্টিফিকেট বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। সরাসরি প্র্যাকটিক্যালি শিখে নেয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে বিষয়টি সে রকম না। ওখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে হলেও তাঁকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সার্টিফিকেট অর্জন করতে হয়। কারণ এ কাজটির সাথে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি জড়িত। ওরা এগুলো মেনে চলে বলেই ওদের ভবন ধ্বসে পড়ে না। কাত হয়ে যায় না। ভেঙ্গে পড়ে না। ওই দেশে আমাদের দেশের রাজমিস্ত্রিদের চাকরির একটি বাজার তৈরি করা সম্ভব হতো যদি আমরা এখানকার রাজমিস্ত্রিদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারতাম এবং কোনো মানসম্পন্ন সার্টিফিকেট দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের দেশে তা হয়নি।

আমি আমাদের কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিশেষ করে যাঁরা বিদেশে চাকরির বাজার নিয়ে কাজ করছে তাঁদের অনেকবারই বলেছি বাজার খোঁজার আগে আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। আর ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির পথে না হেঁটে তাঁদেরও বরং মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। গণহারে উদ্যোক্তা গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকে বেরিয়ে এসে আমরা যদি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রতি দৃঢ়তা দেখাতে পারি তাহলেই এদেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। কারণ, প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যাপকহারে উদ্যোক্তা তৈরি সম্ভব না। যাঁর মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার নেশা আছে তিনি আপন শক্তিতেই উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে যাবেন। তিনি নিজ উদ্যোগেই প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী হবেন।

এদেশে অনেক উদ্যোক্তা আছে যাঁদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তাঁদেরকে কেউ ঋণ দিয়েও সহায়তা করেনি। তাঁরা কোনো জায়গা থেকে পরামর্শও গ্রহণ করেন নি। অথচ তাঁরা আজ সফল উদ্যোক্তা। তাই উদ্যোক্তা ন্যাচারালি তৈরি হয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার এক ধরনের অদম্য নেশাই থাকে। তাঁদের কেউ থামিয়ে রাখতে পারে না। আমাদের দায়িত্ব হওয়া উচিত যাঁরা উদ্যোক্তা হওয়ার নেশায় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাঁদের সকল ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে সহায়তা করা এবং তাঁরা যেন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করানোর জন্য দক্ষ কর্মী পায় সে জন্য দক্ষ কর্মী তৈরি করে সহায়তা করা। তাহলেই তা দেশের জন্য, সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

লেখক : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Collected

Diamu Blog Team

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *